সরকারের পাওনা পৌনে পাঁচশ কোটি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল।
বৃহস্পতিবার বিকালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির কর্মকর্তারা র্যাব-পুলিশ নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।
|
তার মধ্যেই এক সংবাদ সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বিটিআরসির পাওনা না দেওয়ায় সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেল ছিল দেশের একমাত্র মোবাইল ফোন অপারেটর। ফোন সেট ও কলরেটে অতিরিক্ত উচ্চমূল্য আদায় করে একচেটিয়া ব্যবসা করে যায় এ কোম্পানি।
ওই দশকের শেষ দিকে বাজারে নতুন অপারেটর এলে প্রতিযোগিতার মুখে শুরু হয় সিটিসেলের ভাটার টান। গত কয়েক বছরে একাধিকবার সময় নিয়েও পাওনা দিতে পারেনি বলে তারা আপাতত আর তা দিতে পারবে না বলেই মনে করছেন তারানা হালিম।
“তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ব্যাংকের কাছে তারা কোটি কোটি টাকা দেনা, গণমাধ্যমগুলোতেও তারা বিজ্ঞাপনের দেনা পরিশোধ করেনি। এই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চাই।”
কমতে কমতে সিডিএমএ অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক দেড় লাখে এসে ঠেকেছে। তবে এই গ্রাহকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বলেই বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের কথায় স্পষ্ট। সিটিসেলের কর্মীদের বিষয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।
বিটিআরসি কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা শাহজাহান মাহমুদ গ্রাহকদের বিষয়ে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেন, “কোম্পানি নেই, ক্ষতিপূরণ আদায় হবে কীভাবে?”
সিটিসেল গ্রাহকদের অন্য কোম্পানিতে চলে যেতে বিটিআরসির পক্ষ থেকে দুবার সময় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় প্যাসিফিক সেন্টারে র্যাব-পুলিশ নিয়ে বিটিআরসির অভিযানের সময়ই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রতিমন্ত্রী তারানা।
বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিটিআরসির পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এয়াকুব আলী ভূইয়া সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকলেও সংস্থার কোনো কর্মকর্তা মুখ খুলছিলেন না।
সিটিসেল কার্যালয়ে বিটিআরসির কর্মকর্তারা
সংবাদ সম্মেলনে এসে তারানা বলেন, “বিটিআরসির বকেয়া না দেওয়ায় সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়েছে।
“আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে আপিল বিভাগের রায় অনুসারে আইন অনুযায়ী বিটিআরসির ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
পাওনা না পেয়ে গত জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি)। পরের মাসে তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
ওই নোটিসের পর সিটিসেল আদালতে গেলে আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিটিসেলকে দুই মাস সময় দিয়েছিল। গত ২৯ অগাস্ট আদালতের ওই আদেশ হয়।
বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ১৭ অগাস্টের আগ পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এর দুই তৃতীয়াংশ এখন থেকে এক মাসের মধ্যে, আর এক তৃতীয়াংশ পরবর্তী এক মাসে পরিশোধ করতে হবে।
“তাছাড়া ১৭ অগাস্টের পর থেকে প্রতিদিন বিটিআরসি আরও ১৮ লাখ টাকা করে পাওনা হচ্ছে। প্রতিদিনের এই টাকা অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, টাকা না পেলে বিটিআরসি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৪৭৭ কোটি টাকার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ৪ সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। তবে তারা সে টাকা পরিশোধ করেনি।
“তারা আজ মাত্র ১৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। প্রথম পর্যায়ে তাদের ৩১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের কথা ছিল।”
সংগ্রহঃ bdnews24
|
No comments:
Post a Comment